ঢাকাTuesday , 29 September 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. কর্পোরেট
  6. কর্মখালি
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. খাদ্য ও কৃষি
  9. গণমাধ্যম
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. পর্যটন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফুটো টিনের নিচে ৩৭৫ পরিবারের কান্না, আশ্রয়ণেই আশ্রয়হীন জীবন

Link Copied!

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে আশ্রয়ণ ও গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের ঘরগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফুটো টিনের চাল, ভাঙা বেড়া আর জরাজীর্ণ ঘরে বৃষ্টি-শীতের সঙ্গে লড়াই করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলেও জায়গা-জমি না থাকায় অনেকে এখনও এসব জরাজীর্ণ ঘরেই দিন কাটাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সীমান্তঘেঁষা নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চর-গোরকমণ্ডল এলাকার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য বিভিন্ন সময়ে আশ্রয়ণ ও গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আওতায় ঘর নির্মাণ করা হয়। ২০০৩-০৪ সালে গোরকমণ্ডল এলাকায় দুটি আবাসনে ১৬০ ও ৮০টি পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ করা হয়। ২০১৯-২০ সালে ধরলা নদীর পশ্চিমপাড়ে ৬০টি এবং পূর্বপাড়ে ২০টি পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ করা হয়। এছাড়া ২০১০-১১ সালে দক্ষিণ চর-গোরকমণ্ডল এলাকায় ৫৫টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। এসব প্রকল্পে খাসজমির ওপর ঘর নির্মাণ করে মোট ৩৭৫টি ভূমিহীন পরিবারকে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই ঘরগুলোর টিনের চাল ফুটো, বেড়া ভেঙে পড়া এবং চারপাশ আগাছায় ভরে যাওয়ায় অনেক ঘরই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ফুটো চাল দিয়ে ঘরের ভেতর পানি পড়ে। বৃষ্টির পানি ঠেকাতে অনেক পরিবার টিনের ওপর পলিথিন বিছিয়ে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছেন।

আবাসনের বাসিন্দাদের জন্য টিউবওয়েল ও টয়লেট নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় অনেকগুলোই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ পলিথিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে কাঁচা টয়লেট তৈরি করে ব্যবহার করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোথাও ২২ বছর, কোথাও ১৫ বছর আগে নির্মিত ঘরগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় টিনের চাল ও বেড়া নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টি ও শীত মৌসুমে তাদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।

অন্যদিকে ২০১৯-২০ সালে ধরলা নদীর পশ্চিমপাড়ে ৬০টি ভূমিহীন পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ করে হস্তান্তর করা হলেও বর্তমানে সেখানে মাত্র ৮-১০টি পরিবার বসবাস করছে। ধরলার পূর্বপাড়ে ২০ পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ করা হলেও সেখানে বসবাস করছেন মাত্র ৮-৯টি পরিবার।

অধিকাংশ ঘরই এখন খালি পড়ে রয়েছে।
আবাসনের বাসিন্দা জান্নাতী বেগম (৫০), আসমা (৪০) ও মনোয়ারা (৪৫) বলেন, “আমাদের কথা কেউ শোনে না। অনেক কষ্টে আছি। কেউ খোঁজখবর রাখে না। বৃষ্টি হলেই টিনের ওপর পলিথিন দিয়ে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছি। আমাদের তো অন্য কোথাও থাকার জায়গা নেই।

দক্ষিণ চর-গোরকমণ্ডল আনন্দবাজার আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা বাবলুর স্ত্রী জরিনা বলেন, “আমি ৬ নম্বর ঘরে থাকি। কিন্তু সরকারি ঘরে থাকতে পারছি না। কারণ ঘরটি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই নিজে নতুন করে ঘর তৈরি করে এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছি।

একই আবাসনের বাসিন্দা ও কামারের কাজ করা বাদশা বলেন, “আমাদের অবস্থা কাহিল। কেউ আমাদের খোঁজখবর নেয় না। যেদিন আয় হয় সেদিন ভালোই চলি। আর কাজ না পেলে কষ্টে থাকতে হয়।

একই এলাকার পেয়ারা খাতুন বলেন, “২০ জনের নামে আবাসনের ঘর বরাদ্দ থাকলেও এখানে থাকেন মাত্র ৮-৯টি পরিবার। বাকিরা নিজ নিজ বাড়িতে থাকেন।

গোরকমণ্ডল আবাসনের সভাপতি মোনাফ হোসেন বলেন, “১২ থেকে ১৪ বছর ধরে আবাসনটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছি। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে ঘরগুলোর অবস্থা খুবই করুণ। চাল ফুটো হয়ে গেছে, টয়লেটের টিনও পচে গেছে। বাধ্য হয়ে বৃষ্টি ও শীত থেকে রক্ষা পেতে টিনের চালে পলিথিন ও বেড়া দিয়ে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছি। অসহনীয় কষ্টের কারণে আমাদের দুটি আবাসনের ১৭৫টি পরিবার অন্য জায়গায় ঠাঁই নিয়েছে।

আমাদের জায়গা-জমি নেই, তাই এখানেই পড়ে আছি।
এ বিষয়ে উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সিরাজউদ্দৌলা বলেন, “আবাসন ও গুচ্ছগ্রামগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ সাপেক্ষে বসবাসরত প্রত্যেকটি পরিবারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।