মাত্র ১৮৭ টাকা দৈনিক মজুরিতে চা-শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্র অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হাসান তানজিম। একই সঙ্গে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, ভূমি ও বাসস্থানের অধিকার এবং শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনসহ চার দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
১২ আগস্ট বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে রবিউল হাসান তানজিম বলেন, এক কেজি চালের দাম যেখানে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, সেখানে মাত্র ১৮৭ টাকা দৈনিক মজুরিতে একজন চা-শ্রমিকের সংসার চালানো কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমেয়। এই মজুরিতে শ্রমিকদের জীবনযাপন শুধু কষ্টকর নয়, বরং তাদের ন্যূনতম মৌলিক অধিকারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘মাত্র ১৮৭ টাকায় কীভাবে সংসার চলে? মানবতা আজ কোথায়—এই প্রশ্ন আমাদের করতেই হবে।’ শ্রমিকদের হাতে ১৮৭ টাকা মজুরি দেওয়া হলেও সরকারের কাছে ৫৬০ টাকা মজুরি দেখানো হচ্ছে—এমন অভিযোগও তুলে তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
চা-বাগানে শ্রমিকদের নিজেদের তৈরি ঘরের জন্য দৈনিক ৭৮ টাকা ঘরভাড়া এবং ওষুধ বাবদ ৭ টাকা ৫০ পয়সা কর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করে রবিউল হাসান তানজিম বলেন, নিজেদের শ্রম ও অর্থে তৈরি ঘরের জন্য শ্রমিকদের কাছ থেকে এ ধরনের কর্তন অমানবিক। চা-শ্রমিকদের খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাগান মালিকদের বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম চা-বাগানে শ্রম দিয়ে আসা শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতি ও সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। অথচ তাদের জীবনমানের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। চা-শ্রমিকদের ওপর সব ধরনের শোষণ ও বৈষম্য বন্ধ করে তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
চলমান চা-শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চা-শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানাচ্ছি। সর্বাত্মকভাবে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি।’
বিবৃতিতে চা-শ্রমিকদের চার দফা দাবি তুলে ধরেন রবিউল হাসান তানজিম। দাবিগুলো হলো—চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ন্যূনতম ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির গেজেট বাতিল, ভূমি ও বাসস্থানের অধিকার নিশ্চিত করা এবং চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজন করা।
রবিউল হাসান তানজিম ছাত্র অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয় সংসদ ২৭৯, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সংসদীয় আসনের নেতা। তিনি চা-শ্রমিকদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
