ঢাকাWednesday , 12 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. কর্পোরেট
  6. কর্মখালি
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. খাদ্য ও কৃষি
  9. গণমাধ্যম
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. পর্যটন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পড়াশোনার খরচ জোগাতে ২৮ লাখ মানুষের কাছে মাত্র ১ সেন্ট করে চাইলেন, শেষ পর্যন্ত উঠল প্রায় ৩৫ লাখ টাকা!

ভয়েস ডেস্ক
August 12, 2026 11:20 am
Link Copied!

পড়াশোনার খরচ জোগাতে ২৮ লাখ মানুষের কাছে মাত্র ১ সেন্ট করে চাইলেন। যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে পড়ার খরচ জোগাড় করতে শিক্ষাঋণ না নিয়ে এক অভিনব পথ বেছে নিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী মাইক হেইস। ১৯৮৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ে পড়াশোনা শুরু করার সময় চার বছরের খরচ মেটাতে তার প্রয়োজন ছিল প্রায় ২৮ হাজার ডলার। সেই অর্থ সংগ্রহের জন্য তিনি লাখ লাখ মানুষের কাছে মাত্র এক সেন্ট করে সাহায্য চাওয়ার পরিকল্পনা করেন।

তবে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ছে, মাইক নিজে ২৮ লাখ মানুষের কাছে আলাদাভাবে চিঠি পাঠিয়েছিলেন এমনটি নয়। তিনি যোগাযোগ করেছিলেন শিকাগো ট্রিবিউনের জনপ্রিয় কলামিস্ট বব গ্রিনের সঙ্গে। গ্রিনের লেখা তখন যুক্তরাষ্ট্রের বহু সংবাদপত্রে প্রকাশিত হতো এবং তার পাঠকসংখ্যা ছিল কয়েক মিলিয়ন।

মাইক বব গ্রিনকে জানান, যদি ২৮ লাখ মানুষ তাকে মাত্র এক সেন্ট করে পাঠান, তাহলে তার চার বছরের কলেজ খরচ উঠে যাবে। অভিনব পরিকল্পনাটি গ্রিনের পছন্দ হয় এবং তিনি ১৯৮৭ সালের সেপ্টেম্বরে নিজের কলামে মাইকের আবেদন প্রকাশ করেন।

এরপরই শুরু হয় অভাবনীয় সাড়া। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিঠির সঙ্গে আসতে থাকে এক সেন্টের কয়েন। অনেকে শুধু এক সেন্টেই থামেননি। কেউ পাঁচ সেন্ট, কেউ দশ বা ২৫ সেন্ট, আবার কেউ ডলার কিংবা চেক পাঠিয়েছেন। কানাডা ও মেক্সিকো থেকেও অনুদান আসে।

অল্প সময়ের মধ্যেই এত চিঠি আসতে শুরু করে যে স্থানীয় পোস্ট অফিসেও চাপ তৈরি হয়। মাইকের ছোট্ট আবেদন জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও তার গল্প প্রচার হতে থাকে।

শেষ পর্যন্ত মাইক প্রায় ২৯ হাজার ডলার সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। তার প্রয়োজন ছিল প্রায় ২৮ হাজার ডলার। ওই অর্থ দিয়েই ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ে চার বছরের পড়াশোনার খরচ মেটান তিনি।

পরে ১৯৯১ সালে ফুড সায়েন্সে ডিগ্রি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েট করেন মাইক। প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার ডলার আরেকজন আর্থিকভাবে অসচ্ছল নবীন শিক্ষার্থীকে দেওয়ার কথাও পরবর্তী প্রতিবেদনে উঠে আসে।

ঘটনাটি প্রায় চার দশক আগের হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। ইন্টারনেট ও অনলাইন ক্রাউডফান্ডিংয়ের যুগ শুরু হওয়ারও আগে একজন শিক্ষার্থী কীভাবে সংবাদপত্রের পাঠকদের ছোট ছোট অনুদান একত্র করে নিজের উচ্চশিক্ষার খরচ মেটাতে পেরেছিলেন, সেই কারণেই গল্পটি এখনো মানুষের আগ্রহ কাড়ে।

মাইকের পরিকল্পনার মূল হিসাব ছিল খুবই সহজ। একজনের কাছে এক সেন্ট প্রায় মূল্যহীন মনে হতে পারে, কিন্তু লাখ লাখ মানুষ সামান্য করে সহযোগিতা করলে সেটিই বড় অঙ্কে পরিণত হতে পারে। তার ক্ষেত্রে সেই এক সেন্টের ধারণাই শেষ পর্যন্ত প্রায় ২৯ হাজার ডলারের কলেজ ফান্ডে পরিণত হয়েছিল।