অনেকেই কোটিপতি হওয়ার পর বড় বাড়ি, বিলাসবহুল জীবন কিংবা নতুন ব্যবসার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু কানাডার উদ্যোক্তা মার্সেল লে ব্রুন বেছে নিয়েছিলেন একেবারেই ভিন্ন পথ।
নিজের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রেডিয়ান৬ সফটওয়্যার জায়ান্ট সেলসফোর্সের কাছে বিক্রি করার পর তিনি উপলব্ধি করেন, নিজের শহরের মানুষ যদি এখনো রাস্তায় রাত কাটায়, তাহলে এমন ব্যক্তিগত সাফল্যের মূল্য খুব বেশি নয়।
সেই ভাবনা থেকেই কানাডার নিউ ব্রান্সউইকের ফ্রেডেরিকটনে শুরু করেন ‘১২ নেইবার্স’ নামে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
তার লক্ষ্য ছিল ৯৯টি ছোট বাড়ি নিয়ে একটি আবাসিক কমিউনিটি গড়ে তোলা, যেখানে গৃহহীন মানুষ শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগও পাবেন।
প্রতিটি বাড়ির আয়তন প্রায় ২৪০ বর্গ ফুট। সেখানে রয়েছে রান্নাঘর, বাথরুম, বসার জায়গা, বারান্দা এবং সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থাও।
তবে লে ব্রুন শুরু থেকেই জানতেন, শুধু একটি বাড়ি দিলেই গৃহহীনতার সমস্যা দূর হবে না।
তাই এই প্রকল্পের বাসিন্দাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, মাদকাসক্তি থেকে পুনর্বাসন এবং মর্যাদার সঙ্গে জীবন পুনর্গঠনের বিভিন্ন সহায়তাও রাখা হয়েছে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মার্সেল লে ব্রুন নিজেই প্রায় ৪০ লাখ কানাডীয় ডলার (প্রায় ৩৫ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করেছেন। পাশাপাশি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকারও অর্থায়নের মাধ্যমে সহায়তা দিয়েছে।
লে ব্রুনের উদ্দেশ্য কখনো দান-খয়রাত করা ছিল না।
তিনি এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চেয়েছেন, যেখানে মানুষ আবার স্থিতিশীলতা, আত্মমর্যাদা, জীবনের লক্ষ্য এবং নতুন আশার সন্ধান পেতে পারে।
তার এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃত সম্পদের মূল্য শুধু কতগুলো বাড়ির মালিক হওয়ায় নয়; বরং কত মানুষের জীবন নতুন করে গড়ে তুলতে পেরেছেন, সেটিই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন।
