ঢাকাSunday , 19 April 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম
  5. কর্পোরেট
  6. কর্মখালি
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. খাদ্য ও কৃষি
  9. গণমাধ্যম
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
  13. নারী ও শিশু
  14. পর্যটন
  15. পার্বত্য জেলার খবর

জেলেদের ভিজিএফ চাউল বিতরণে হট্টগোল- তদন্তে উপজেলা প্রশাসন

Link Copied!

বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ৪৭৫ প্রজাতির মাছের অবাধ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর ফলে বুধবার মধ্যরাত থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।

মেরিন ফিশারিজ অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে আসছিল সরকার।

শুরুতে এ আদেশ কেবল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিশিং ট্রলারের জন্য প্রযোজ্য হলেও ২০১৯ সাল থেকে উপকূলের সব ইঞ্জিনচালিত ট্রলার–নৌকা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসে।

৬৫ দিনের এ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বাংলাদেশি জেলেদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। তাঁদের অভিযোগ, বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ ধরা বন্ধ থাকার সুযোগে পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে অবাধে মাছ ধরতেন।

জেলেদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গত বছর থেকে এ অবরোধের সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করে। ভারতের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিষেধাজ্ঞা সাত দিন কমিয়ে ৫৮ দিন নির্ধারণ করা হয়।

গত বছরের ১১ মার্চ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার নতুন সময়সীমা ঘোষণা করা হয়, যা চলতি বছরও বহাল রাখা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা চলার সময়ে জেলেদের জীবিকা সুরক্ষায় সরকার বিশেষ সহায়তা দিচ্ছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।এতে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে উপকূলীয় ১৪টি জেলার ৬৭টি উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগরসহ মোট ৩ লাখ ১১ হাজার ৬২ জন সমুদ্রগামী জেলেকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি হারে ৫৮ দিনের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণ করা হবে।

৫৮দিনের মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা চলাকালে
২০২৫-২৬ অর্থ বছরে জাটকা আহরণে বিরত থাকা মৎস্যজীবি জেলেদের  ভিজিএফ চাউল বিতরণ করার কথা থাকলেও সরেজমিনে সেটা যে জেলেদের”চাউল বিতরণে চাউলবাজি”র মতো অবস্থা।দেশের প্রতিটি উপকূল অঞ্চলে জেলে কার্ড এবং জেলেদের চাউল বিতরণ অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে।অভিযোগ আছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে থাকা বিভিন্ন পেশার মানুষকে স্বজন প্রীতির মাধ্যমে জেলে ভাতার আওতায় লিপিবদ্ধ করা হয়।যাঁর কারণে প্রকৃত জেলেরা বাদ পড়ে এ সুবিধা থেকে।

সাম্প্রতিক আজ চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে জেলেদের চাউল বিতরণ কালে বাঁধে হট্টগোল।

উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়ন পরিষদে সকাল দশটায় বিতরণ করার কথা ছিলো ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জেলেদের ৪০কেজি চাউল।অভিযোগ উঠে মাস্টার রোলে আজ যে ১১৩জন ব্যক্তিকে চাউল বিতরণ করা হবে তাঁর মধ্যে প্রায় ৬২টি জন জেলে না,তাঁরা কেউ চাকরিজীবী,কেউ তরকারি ব্যবসায়ী আবার কেউ অটোরিকশা চালক।এ চিত্র শুধু কর্ণফুলীর নই সমগ্র বাংলাদেশের।যেখানে প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে চাউল হরিলুট করছে অন্যরা।এ নিয়ে জেলেদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভের।

বড়উঠান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর বলেন,জেলেরা আমার কাছে অভিযোগ করে প্রকৃত জেলেদের কে বাদ দিয়ে চাউল বিতরণ করা হচ্ছে অপেশাদার নামধারী জেলেদের কে।আমি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ইউএনও মহোদয় কে অবগত করি।তিনি একটা তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন প্রকৃত জেলেদের তালিকা করার জন্য।

আনোয়ারা-কর্ণফুলী মৎস্য অফিস জানায়, বঙ্গোপসাগরে আনোয়ারার মাছ ধরার নৌক ও ট্রলার রয়েছে ৯৭৫টি। এসব নৌকা-ট্রলারে নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ৭ হাজার ৫০৩ জন, অনিবন্ধিত জেলে রয়েছে ৫ হাজার। অপরদিকে কর্ণফুলীতে নৌক ও ট্রলার রয়েছে ১১০টি, ১ হাজার ৪১৪ জন নিবন্ধিত জেলে এবং অনিবন্ধিত জেলে রয়েছে প্রায় ১ হাজারের উপরে। সবমিলিয়ে ২০ হাজারের বেশি পরিবার মাছ ধরে সংসার চালান।

কর্ণফুলী উপজেলা মৎস্য কমকর্তা আবদুল আলীম বলেন,বড়উঠান ইউনিয়নে ২৭৮জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছে।আমি এখানে এসে দেখতে পাই আগে থেকে এরাই তালিকায় নিবন্ধিত এবং প্রত্যেকের কাছে জেলে কার্ড রয়েছে। আমার পুরো উপজেলায় ১৪শত জন জেলে আছে যাঁর মধ্যে ৪০০জন জেলে ৪০কেজির চাউল পাবে এ মাসে,পযার্য়ের ক্রমে সবাই পাবে,যেহেতু জেলেদের তালিকাটা আগে থেকে করানো ছিলো সেহেতু সেখানে যে অভিযোগটি উঠেছে সেটা নিয়ে আমরা কাজ করতেছি,শীগ্রই তদন্ত কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে,কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা সজীব কান্তি রূদ্ধ বলেন, বড়উঠান ইউনিয়নে জেলেদের দুপক্ষের মধ্যে হট্টগোল এবং উত্তেজনার বিষয়টি জানতে পেরেছি,আমরা আপাতত চাউল বিতরণ স্থগিত করেছি এবং প্রকৃত জেলেদের তথ্য যাচাই-বাছাই করার জন্য স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী এবং জেলেদের সমবায় সমিতির মাধ্যমে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি যেন তাঁরা প্রকৃত জেলেদের তালিকা তৈরি করে দিতে পারে।