চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরে ৩ ছেলে ও ১ কন্যার জননী লাকি আকতারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ৮ মে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের বিল থেকে গরু চড়িয়ে ফেরার পথে লাকি আকতার (৩৮)কে একা পেয়ে আক্রমণ করে তার ছেলের শ্বশুর 'মোহাম্মদ ছাফা'। সেখানে তাকে একা পেয়ে ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে গলা টিপে হত্যা করে বিলে ফেলে রাখা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮মে শুক্রবার কাঞ্চননগর এলাকার একটি বিল থেকে লাকি আকতারের মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। আজ ৯ মে শনিবার সকালে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বাড়ির সর্দার মোহাম্মদ ইউনুস ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, "ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মোহাম্মদ ছাফা আমাদের কাছে স্বীকার করেছে যে, সে নিজেই লাকি আকতারকে ধর্ষণ করার পর গলা টিপে হত্যা করেছে। এমন জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
মেয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন নিহতের পিতা আবুল বশর। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, "আমার মেয়েকে পশুর মতো ধর্ষণ করে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই। খুনি মোহাম্মদ ছাফার যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়।
নিহতের ননদ আরাফা খাতুন বলেন- ছাফা মাঝে মধ্যে লাকি আকতারের বাড়িতে এসে বিরক্ত করতো। তাকে না আসার জন্য অনেকবার বলা হয়েছে। সুযোগ পেয়ে লাকি আকতারকে সে মেরে পেলেছে।
ফটিকছড়ি থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ছাফাকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। সর্দারের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তি এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।
এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন- লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানা যাবে।