কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ৬০ বছর বয়সী মকবুল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে কিশোরীর ব্লেডের আঘাতে ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার খড়িবাড়ী শেখপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা মো. হাসমত আলী ওই রাতেই ফুলবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি কিশোরীর বাড়ির পাশে বসবাস করায় দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত এবং অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ও তার স্বজনদের জানিয়ে সতর্কও করা হয়েছিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মকবুল হোসেন কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে তাকে কয়েকটি শ্যাম্পু দিয়ে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। কিশোরী এতে রাজি না হলে তাকে রাতে জোরপূর্বক ধর্ষণের হুমকি দিয়ে তিনি চলে যান।
পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কিশোরীর দাদি ঘরে নামাজ পড়ার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে তিনি কিশোরীকে জাপটে ধরে মাটিতে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং মুখ চেপে ধরেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় কিশোরী আত্মরক্ষার্থে ঘরে পড়ে থাকা একটি পুরোনো ব্লেড দিয়ে তার পুরুষা আঘাত করলে তিনি আহত হন। পরে চিৎকার করতে করতে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
কিশোরীর বাবা জানান, খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে আহত মকবুল হোসেনের চিকিৎসার বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোঁজ নেওয়া হলে সেখানে তার চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তিনি লালমনিরহাট অথবা রংপুরের কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারেন। তবে তার বর্তমান অবস্থান বা চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফুলবাড়ী থানার ডিউটি অফিসার এসআই ইকবাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।