
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মরিয়মনগর ইউনিয়নে অবস্থিত হযরত মুজিবুল্লাহ শাহ (রহ.) প্রকাশ পাগলা মামার মাজার শরীফ অঞ্চলের অন্যতম সুপরিচিত আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন।
প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী ও দর্শনার্থী এই পুণ্যভূমিতে সমবেত হন।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়নে অবস্থিত এই মাজারটি স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও অলৌকিক মহিমায় ঘেরা এক স্থান। এখানে শায়িত আছেন বিখ্যাত সুফি সাধক হযরত মুজিবুল্লাহ শাহ (রহ.) যিনি সাধারণ মানুষের কাছে মূলত "পাগলা মামা" নামেই সমধিক পরিচিত।
স্থানীয় তথ্য অনুসারে, উনিশ শতকের এই মাজারটি অত্র অঞ্চলের একটি অন্যতম প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য।
মাজারটি চট্টগ্রাম জেলা সদর থেকে প্রায় ৩০-৩৫ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়নে অবস্থিত।
চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়ক কিংবা মরিয়মনগর-রানিরহাট লিংক রোড ব্যবহার করে সহজেই এই মাজারে যাতায়াত করা যায়।
পাগলা মামার মাজারকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর ২০ মার্চ, ৬ চৈত্র এখানে বিশাল পরিসরে বার্ষিক ওরশ মোবারক উদযাপিত হয়। ওরশের সময় পুরো এলাকা উৎসবের আমেজে রূপ নেয়।
ওরশের দিন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে চট্টগ্রাম ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ মাজার জিয়ারত এবং মানত পূরণের উদ্দেশ্যে আসেন।
ওরশ উপলক্ষে মাজার সংলগ্ন বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় লোকজ খেলনা, তৈজসপত্র, মিষ্টি ও বিভিন্ন ধরনের গ্রামীণ পণ্যের পসরা বসে।
ওরশ ও বিশেষ দিনগুলোতে আগত দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক পরিসরে তবারক বা নেওয়াজ বিতরণ করা হয়।
রাঙ্গুনিয়ার স্থানীয় সংস্কৃতি ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে এই মাজারের ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। আধ্যাত্মিক শান্তির খোঁজে যেমন মানুষ এখানে আসেন, তেমনি এটি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার অন্যতম প্রধান একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবেও স্বীকৃত।